হায়রে বাসরটাও করতে পারলাম না
আজ আমার বিয়ে ছিলো। লোক মুখে শুনেছি, তুমি যদিকারো খারাপ চাও তবে তাকে জুয়া খেলা শেখাও, নয়তো তাকে বিয়ে করিয়ে দাও।
আমার সাথে আমার বাবা মায়ের কিসের শত্রুতা আছে জানিনা তবে তারা আমায় আজ বিয়ে করিয়ে দিলেন।
বিয়ে যেহেতু করেই ফেলেছি, তাহলে তো বাসর ঘরে যেতেই হবে,,না হলে তো আবার জাত থাকে না। তাই আমি গেলাম বাসর ঘরে। যেয়ে দেখি আমার কাজিনরা বাহারি রঙের ফুল দিয়ে আমার বাসরঘর সাজাচ্ছেন।
কিন্তু একি হায়, সবাই আমায় বাসর ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে কেনো?
পরে বুঝতে পারলাম বিষয়টা,, আসলে আমি যখন বাসর ঘরে ঢুকেছি তখন বেজেছিলো সবে ৭টা!! তাই আমার সেখানে জায়গা হয়নি। আমার বাসরঘরে যাওয়ার সময় নাকি রাত ১২টার পর।
কি জ্বালারে বাবা আমার ঘরে আমি ঢুকবো তাতেও আবার ঘড়ি দেখে!
যাইহোক তাদের বিরুদ্ধে গেলাম না আজ। শত হলেও আমার যে আজ বিয়ে!
ছাদে বসে বসে সিগারেট টানছি, আর ভাবছি আজ আমার কপালে যেনো কি আছে! নানা রকম চিন্তা মাথায় ভর করছে। কোনটা রেখে কোনটা নিয়ে ভাববো।
একবার ভাবলাম আজকের দুনিয়াতে কত কিছুরইতো course করানো হয়, বিয়ের কোনো course কেনো করানো হয় না! তাহলে আর কাউকে বিবাহ নিয়ে কোনো ভিতি থাকতো না।সবাই থাকতো experienced!
যাইহোক, রাত তখন১২টা বেজে ০৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড, আমি ঢুকলাম বাসরঘরে।
ঢুকে দেখলাম এক অপরুপ সাজে সাজানো হয়েছে আমার ঘরটাকে,চারদিকে ফুলের গন্ধে মৌ মৌ করছে, আহ, একিসুন্দর পরিবেশ!
আমি একটুএকটু করে খাটের দিকে এগিয়ে গেলাম। ফুল দিয়ে সাজানোর কারনে খাটের ভেতর টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
হায় কপাল আমার বউ গেলো কোথায়! বউ! ও বউ! বউ! বউ তুমি কোথায়!
মর জ্বালা, আমারবউ গেলো কই?
খাটের নিচে লুকালো নাতো?
যাইহোক আমাকে কি বোকা পেয়েছে নাকি, আমিও কম যাইনা হুম!আমিও শুয়ে পড়লাম! যখন মাজা ব্যাথা হয়ে যাবে নিজেই বের হয়ে আসবে!
(৩০মিনিট)
এখনো বের হচ্ছে না মেয়েটা, আজবতো!
খাটথেকে নেমে খাটের নিচে তাকাতেই ওমা একি! আমার বউতো নেই খাটের নিচে! বউ....ও বউ... কই গেলা তুমি....
হঠাত দেখলাম আমি সাতার কাটছি পুকুরে!
দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার। লাফদিয়ে উঠে গেলাম, ওমা,একি আমিতো দেখি মেঝেতে শুয়ে আছি। আমার মামাতো ছোট ভাইটা তার অপ্রয়োজনীয় তরল টা আমার উপর ত্যাগ করেছে!
তাহলেকি এটা স্বপ্ন ছিলো! ছিলো ভালো কথাতাই বলে ক্লাইম্যাক্স এ এসে শেষ হয়ে যাবে? বাসর টাও করতে পারলাম নাহ! ধুর!!!
0 comments: